মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১৪ জুলাই ২০২১

চেয়ারম্যান বার্তা

 

সত্তরের দশকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে কন্টেইনার পদ্ধতি প্রবর্তনের পরবর্তীতে বিবিধ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে বিশ্বের বন্দর সমূহ। বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও বাণিজ্য খাতে নব-সূচিত এ প্রবণতার সাথে খাপ খাইয়ে অব্যাহতভাবে এগিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর এবং নানাবিধ সুবিধা তৈরি করেছে বাজার চাহিদা পূরণে।

চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের মুখ্য বন্দর। এ কারণে জাতীয় উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য রয়েছে তার। চট্টগ্রাম বন্দরের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে সমুদ্রবাহিত বাণিজ্যে আমদানি-রপ্তানি পণ্যের যথাযথ এবং দক্ষ হ্যান্ডলিংয়ের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর যোগান এবং সেবা প্রদান করা। পরিচালন প্রক্রিয়ার দুর্বলতা এবং অবকাঠামোর অপর্যাপ্ততার কারণে বন্দরের অদক্ষতার পরিণামে সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

আশির দশকে বাণিজ্যের উদারীকরণ এবং বৈশ্বায়নের সুবাদে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পণ্য ও সেবার আদান-প্রদান বেড়েছে। অর্থনৈতিকভাবে তুলনামলক এগিয়ে থাকা দেশগুলো ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের দিকে ঝুঁকে পড়ার কারণে একটা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সামনে, যারা চাইছে নিজেদের উৎপাদনশীলতায় সামর্থ্য বাড়িয়ে তুলতে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে বৈশ্বিক যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি আরও গতিশীল করে তুলতে। টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের নানাবিধ উপায় খুঁজছে বাংলাদেশ। এই বাণিজ্যিক লক্ষ্য অর্জনে আমাদের সামুদ্রিক প্রবেশদ্বারের সামর্থ্য এবং দক্ষতা বাড়াতে হবে এবং আমদানিকারক, রপ্তানিকারক ও পরিবাহকের বাণিজ্যিক চাহিদা পূরণে আরও তৎপর হতে হবে। আজকের বৈশ্বিক প্রেক্ষিতে প্রতিটি বন্দর অন্যান্য বন্দরের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নিজেকে আরও দক্ষ এবং সাশ্রয়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এ কারণে আগামীতে আঞ্চলিক প্রাণকেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হবার লক্ষ্য বিবেচনায় রেখে চট্টগ্রাম বন্দরের সামগ্রিক সামর্থ্য আশু বৃদ্ধি অপরিহার্য।   

বন্দরের দক্ষতা, উৎপাদনশীলতা এবং সেবার মান উন্নয়নে বিভিন্ন সমস্যার ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করে ইতোমধ্যেই সাহসী নির্দেশনা ও পদক্ষেপ গ্রহণের মধ্য দিয়ে নানাবিধ টেকসই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ফলশ্রুতিতে বর্তমানে বন্দরের মাত্র ৬০ শতাংশ সামর্থ্য কাজে লাগিয়েই আগের চেয়ে অনেক বেশি জাহাজ ও কার্গো হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দরের এই ওয়েবসাইটে আগ্রহী পাঠকের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার উদ্দেশ্যেও এসব বিষয় উল্লেখ করলাম যাতে তারাও বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমরা এখন কী করছি এবং আগামীতে আরও কী করতে যাচ্ছি সে বিষয়ে অবহিত থাকতে পারেন। আমার বিশ্বাস, বর্তমান উদ্যোগটি আপনার ব্যক্তিগত কিংবা বাণিজ্যিক যে কোনো প্রয়োজনে উপকারী ভূমিকা রাখবে।

 

রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান, এনপিপি, বিসিজিএমএস এনডিসি, পিএসসি

চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম বন্দর র্কতৃপক্ষ।


Share with :

Facebook Facebook